পরকালীন যাত্রা ও জীবনের বাস্তবতা
মানুষের অস্তিত্ব ও পরকালীন জীবন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এক অলঙ্ঘনীয় সত্য বর্ণনা করেছেন। তিনি মানুষকে অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে জীবন দিয়েছেন, আবার তিনি মৃত্যু দেবেন এবং পুনরায় বিচারের জন্য জীবিত করবেন। এই চক্রই প্রমাণ করে যে, পরকালই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। তিনি বলেন,
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
“তোমরা কীভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দিয়েছেন। আবার তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন এবং পুনরায় জীবিত করবেন। অবশেষে তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরে যেতে হবে।” (সূরা বাকারা: ২৮)
পার্থিব জীবনে যারা সামান্য স্বার্থের লোভে আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, কিয়ামতের দিন তারা হবে চরম একা। আল্লাহ সেদিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, দয়ার দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَٰئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দয়ার নজরে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আলে ইমরান: ৭৭)
মৃত্যু প্রতিটি প্রাণীর জন্য অবধারিত। কিয়ামতের দিনই প্রতিটি কাজের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সেদিন যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে ঠাঁই পাবে, সেই হবে প্রকৃত সফল। কারণ এই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই মূলত সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকার সামগ্রী।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
কুষ্ঠরোগী, অন্ধ ও টেকোর কাহিনী
বহু বছর আগের কথা। বনী ইসরাঈলের এক জনপদে বাস করত তিন ব্যক্তি। তাদের জীবন ছিল বড় কষ্টের; একজন ভুগছিল কুষ্ঠরোগে, একজনের মাথায় ছিল টাক, আর অন্যজন ছিল পুরোপুরি অন্ধ। আল্লাহ তাআলা তাদের এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি মানুষের বেশে একজন ফেরেশতা পাঠালেন তাদের কাছে।
ফেরেশতা প্রথমে কুষ্ঠরোগীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার মনে সবচেয়ে বড় চাওয়া কী?” লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সুন্দর গায়ের রং আর মসৃণ চামড়া। কারণ এই রোগের কারণে মানুষ আমাকে দেখে ঘৃণা করে।” ফেরেশতা মমতার সাথে তার শরীরে হাত বুলালেন। নিমিষেই তার কুৎসিত রোগ দূর হয়ে গেল এবং সে সুন্দর গায়ের রং ফিরে পেল। ফেরেশতা আবার জিজ্ঞেস করলেন, “সম্পদের মধ্যে তোমার কোনটি পছন্দ?” সে বলল, “উট।” তখন তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেওয়া হলো এবং ফেরেশতা দোয়া করলেন, “আল্লাহ এতে তোমাকে বরকত দিন।”
এরপর ফেরেশতা গেলেন সেই টেকো ব্যক্তির কাছে। সে চাইল মাথায় একরাশ সুন্দর চুল, যাতে মানুষ তাকে আর উপহাস না করে। ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই গজিয়ে উঠল চমৎকার চুল। সম্পদের কথা জানতে চাইলে সে গরুর কথা বলল। তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দিয়ে ফেরেশতা তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন।
সবশেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন তার স্বপ্নের কথা। লোকটি বলল, “আমি কেবল আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে চাই, যাতে আমি আল্লাহর সৃষ্টি আর মানুষদের দেখতে পারি।” ফেরেশতার ছোঁয়ায় তার অন্ধকার পৃথিবী আলোয় ভরে উঠল। সম্পদের মাঝে সে চাইল ছাগল। তাকে এমন একটি গর্ভবতী ছাগী দেওয়া হলো, যা প্রচুর বাচ্চা দেয়।
সময়ের স্রোতে আল্লাহর অশেষ দয়ায় তাদের পশুপাল জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকল। উট, গরু আর ছাগলের বাচ্চার সংখ্যা এতই বাড়ল যে, একজনের উটে বিশাল ময়দান ভরে গেল, একজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হলো আর অন্যজনের ছাগলে পাহাড়ের উপত্যকা ছেয়ে গেল। তারা তিনজনেই এখন মস্ত বড় ধনী।
বহুদিন পর আল্লাহ তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে চাইলেন। সেই ফেরেশতা আবারও পুরোনো সেই রুগ্ন ও দরিদ্র মুসাফিরের ছদ্মবেশে তাদের দরজায় হাজির হলেন।
তিনি প্রথমে সেই সাবেক কুষ্ঠরোগীর কাছে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করে বললেন, “আমি এক অভাবী মুসাফির। সফরে আমার সব সম্বল ফুরিয়ে গেছে। আজ আল্লাহ ছাড়া আমার বাড়ি ফেরার কোনো পথ নেই। যিনি আপনাকে সুন্দর চেহারা আর এত সম্পদ দিয়েছেন, সেই আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি—আমাকে একটি উট দিন, যা দিয়ে আমি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি।” কিন্তু প্রাচুর্যের অহংকারে লোকটি তার অতীত ভুলে গিয়েছিল। সে কঠোরভাবে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলল, “আমার অনেক দায়দায়িত্ব আছে, তোমাকে দেওয়ার মতো উট নেই।” ফেরেশতা অবাক হয়ে বললেন, “তোমাকে কি আমি চিনি না? তুমি কি সেই কুষ্ঠরোগী ছিলে না যাকে মানুষ ঘৃণা করত? তুমি কি নিঃস্ব ছিলে না?” লোকটি নির্লজ্জভাবে মিথ্যা বলে বসল, “না না! এসব সম্পদ তো আমি উত্তরাধিকার সূত্রে আমার পূর্বপুরুষদের থেকে পেয়েছি!” ফেরেশতা তখন বললেন, “তুমি যদি মিথ্যা বলে থাকো, তবে আল্লাহ যেন তোমাকে আগের রুগ্ন অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।”
ফেরেশতা একইভাবে সেই টেকো ব্যক্তির কাছে গিয়েও সাহায্য চাইলেন। সেও দম্ভভরে মুসাফিরকে ফিরিয়ে দিল এবং নিজের অতীত অস্বীকার করল। ফেরেশতা তাকেও একই হুঁশিয়ারি দিয়ে বিদায় নিলেন।
সবশেষে ফেরেশতা সেই অন্ধ ব্যক্তির কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। মুসাফিরের করুণ আর্তি শুনে সেই সাবেক অন্ধ লোকটি আবেগাপ্লুত হয়ে বলল, “ভাই! আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহর শপথ, আমি সত্যিই অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমাকে আলো দিয়েছেন। আমি বড় গরিব ছিলাম, আল্লাহই আমাকে আজ ধনী করেছেন। এই যে আমার ছাগলের পাল দেখছেন—এখান থেকে আপনার যা খুশি, যতগুলো ইচ্ছা নিয়ে যান। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি যা নেবেন, তার জন্য আমি আজ একটুও আপত্তি করব না।”
ফেরেশতা তখন তাঁর আসল পরিচয় দিয়ে বললেন, “আপনার সম্পদ আপনার কাছেই রাখুন। আসলে আপনাদের তিনজনের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আল্লাহ আপনার ওপর পরম সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর আপনার বাকি দুই বন্ধুর ওপর তিনি চরম অসন্তুষ্ট হয়েছেন।”
কথিত আছে, চোখের পলকে প্রথম দুই ব্যক্তি তাদের সব সহায়-সম্পদ হারিয়ে আবার আগের মতো রুগ্ন ও নিঃস্ব হয়ে গেল। কিন্তু সেই কৃতজ্ঞ ব্যক্তিটি তাঁর সম্পদ ও আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে আজীবন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগলেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৪৬৪
খাবারের সুন্নাহ
নবী করীম ﷺ–এর শিক্ষা অনুযায়ী খাবার গ্রহণের আদব ও সুন্নাহসমূহ সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরা হলো।
প্রথমত: খাবারের পূর্বে ও খাবার গ্রহণকালে
১। তাসমিয়াহ বলা
খাবার শুরু করার আগে বলা:
بِسْمِ اللَّهِ
অর্থ: “আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।”
২। ডান হাতে খাওয়া
كُلْ بِيَمِينِكَ
অর্থ: “তোমার ডান হাতে খাও।”
৩। নিজের সামনের দিক থেকে খাওয়া
وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
অর্থ: “তোমার সামনে যা আছে তা থেকেই খাও।”
উপরের তিনটি নির্দেশ এক হাদীসে এসেছে। নবী ﷺ এক বালককে বলেছিলেন:
يَا غُلَامُ، سَمِّ اللَّهَ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
অর্থ: “হে বালক! আল্লাহর নাম নাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনের দিক থেকে খাও।”
— সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
৪। খাবার পড়ে গেলে উঠিয়ে খাওয়া
খাবার পড়ে গেলে তা পরিষ্কার করে খেতে হবে। নবী ﷺ বলেছেন:
إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيَأْخُذْهَا، فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذًى، وَلْيَأْكُلْهَا، وَلَا يَدَعْهَا لِلشَّيْطَانِ
অর্থ: “তোমাদের কারও খাবারের লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে নেয়, ময়লা পরিষ্কার করে খায় এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।”
— সহীহ মুসলিম
৫। তিন আঙুলে খাওয়া
নবী ﷺ সাধারণত তিন আঙুলে খাবার গ্রহণ করতেন।
— সহীহ মুসলিম
৬। বসার পদ্ধতি
খাবার সময় বিনয়ীভাবে বসা সুন্নাহ। যেমন—
দুই পায়ের ওপর হাটুগেড়ে বসা।
অথবা,
ডান পা খাড়া করে বাম পায়ের ওপর বসা।
এ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকারযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর গ্রন্থ ফাতহুল বারী-তে।
দ্বিতীয়ত: খাবারের পর
১। আঙুল ও পাত্র চেটে পরিষ্কার করা
নবী ﷺ আঙুল চেটে খেতে এবং পাত্র পরিষ্কার করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ খাদ্যের বরকত কোথায় রয়েছে তা জানা যায় না।
— সহীহ মুসলিম
২। আল্লাহর প্রশংসা করা (দো‘আ পাঠ করা)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ
অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এ খাদ্য দান করেছেন এবং তা আমার রিযিক হিসেবে প্রদান করেছেন—আমার পক্ষ থেকে কোনো উপায় বা শক্তি ছাড়া।”
ফযিলত:
এই দো‘আ পাঠ করলে পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
— সুনান আবু দাউদ,
সুদ ও এর ভয়াবহ পরিণাম
ইসলামী শরিয়তে সুদকে কেবল হারামই করা হয়নি, বরং একে এক মারাত্মক সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে সুদের কারবারিদের পরকালীন লাঞ্ছনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ
“যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান তার স্পর্শ দিয়ে পাগল করে দিয়েছে।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)
অর্থাৎ, সুদের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দিবসে অত্যন্ত অপমানজনক অবস্থায় উপস্থিত হতে হবে। তাদের চালচলন ও শারীরিক অবস্থা হবে উন্মাদ বা পাগলের মতো।
সুদের গুনাহ কতটা ভয়াবহ, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি এর ভয়াবহতাকে তুলনা করেছেন জঘন্যতম অপরাধের সাথে:
الرِّبَا ثَلاثَةٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَيْسَرُهَا مِثْلُ أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ وَإِنَّ أَرْبَى الرِّبَا عِرْضُ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ
“সুদের পঁচাত্তরটি (অন্য বর্ণনায় ৭৩টি) স্তর বা শাখা রয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট বা হালকা স্তরটি হলো নিজ মায়ের সাথে বিবাহ (ব্যভিচার) করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো কোনো মুসলিম ভাইয়ের সম্মানহানি করা।” (মুসতাদরাকে হাকেম, সহীহ আল-জামে)
এই হাদিসটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সুদ খাওয়া মানে কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং এটি মানুষের নৈতিকতা ও আত্মিক পবিত্রতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
রমাদান এলে সালাফদের জীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠত অগ্রাধিকারের এক অনন্য মানচিত্র—সব কাজের ভিড় পেরিয়ে তারা ফিরে যেতেন কুরআনের ছায়াতলে।
ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.) রমাদান মাসে দারস-তাদরিস ও অন্যান্য নফল ইবাদতও স্থগিত রাখতেন; নিজেকে সম্পূর্ণভাবে কুরআন তিলাওয়াতে নিয়োজিত করতেন। যেন এ মাস তাঁর কাছে ছিল একান্ত কুরআনের জন্য নির্ধারিত—আয়াতের সান্নিধ্যে আত্মাকে শুদ্ধ করার বিশেষ সময়।
— ইবনু রজব হাম্বলী, লাতায়েফুল মাআরিফ