১০ রমাদান

কুরআন: হিদায়াত, সত্যের মানদণ্ড ও আল্লাহর রহমত

পবিত্র কুরআন কেবল একটি কিতাব নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা। কুরআনের আলোকে ঈমান ও আমলের বিধানসমূহ নিম্নরূপ:

১. মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ وَ بِالۡاٰخِرَۃِ هُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ؕ﴿۴﴾

মুমিন তারাই, যারা আপনার (রাসূল ﷺ) প্রতি নাযিলকৃত কিতাবের (কুরআন) ওপর এবং আপনার পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনে। আর তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) রাখে।

[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪]

২. পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন ও তাকওয়া

وَ اٰمِنُوۡا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَکُمۡ وَ لَا تَکُوۡنُوۡۤا اَوَّلَ کَافِرٍۭ بِهٖ ۪ وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ۫ وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ ﴿۴۱﴾

আমি যা নাযিল করেছি (কুরআন), তা তোমাদের কাছে থাকা কিতাবের (তাওরাত ও ইঞ্জিল) সত্যায়নকারী। সুতরাং তোমরা এর প্রতি ঈমান আনো এবং এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। সামান্য বৈষয়িক লাভের বিনিময়ে আমার আয়াতসমূহকে বিক্রি করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় করো।

[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪১]

৩. মাহে রমযান ও কুরআনের মাহাত্ম্য

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَهِدَ مِنۡکُمُ الشَّهۡرَ فَلۡیَصُمۡهُ ؕ وَ مَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰهُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَ لِتُکۡمِلُوا الۡعِدَّۃَ وَ لِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمۡ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۸۵﴾

রমযান মাসই সেই মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এটি মানুষের জন্য হিদায়াত এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (আল-ফুরকান)।

সিয়ামের নির্দেশ: যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন রোজা রাখে।

সহজ বিধান: অসুস্থ বা মুসাফির ব্যক্তির জন্য রোজা কাজা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না।

উদ্দেশ্য: যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং হিদায়াতের জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫]

৪. আল্লাহর অসীম রহমত ও পরকাল

 قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰهِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِهِ الرَّحۡمَۃَ ؕ لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡهِ ؕ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ فَهُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۲﴾

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা আছে, সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। তিনি রহমত করাকে নিজের ওপর অবশ্য কর্তব্য হিসেবে লিখে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই কিয়ামতের দিন তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা নিজের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা এই ধ্রুব সত্যের প্রতি ঈমান আনবে না।

[সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১২]