কুরআন: হিদায়াত, সত্যের মানদণ্ড ও আল্লাহর রহমত
পবিত্র কুরআন কেবল একটি কিতাব নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা। কুরআনের আলোকে ঈমান ও আমলের বিধানসমূহ নিম্নরূপ:
১. মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য
وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ وَ بِالۡاٰخِرَۃِ هُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ؕ﴿۴﴾
মুমিন তারাই, যারা আপনার (রাসূল ﷺ) প্রতি নাযিলকৃত কিতাবের (কুরআন) ওপর এবং আপনার পূর্বে নাযিলকৃত কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনে। আর তারা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) রাখে।
[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪]
২. পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন ও তাকওয়া
وَ اٰمِنُوۡا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَکُمۡ وَ لَا تَکُوۡنُوۡۤا اَوَّلَ کَافِرٍۭ بِهٖ ۪ وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ۫ وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ ﴿۴۱﴾
আমি যা নাযিল করেছি (কুরআন), তা তোমাদের কাছে থাকা কিতাবের (তাওরাত ও ইঞ্জিল) সত্যায়নকারী। সুতরাং তোমরা এর প্রতি ঈমান আনো এবং এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। সামান্য বৈষয়িক লাভের বিনিময়ে আমার আয়াতসমূহকে বিক্রি করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় করো।
[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪১]
৩. মাহে রমযান ও কুরআনের মাহাত্ম্য
شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَهِدَ مِنۡکُمُ الشَّهۡرَ فَلۡیَصُمۡهُ ؕ وَ مَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰهُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَ لِتُکۡمِلُوا الۡعِدَّۃَ وَ لِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمۡ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۸۵﴾
রমযান মাসই সেই মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এটি মানুষের জন্য হিদায়াত এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (আল-ফুরকান)।
সিয়ামের নির্দেশ: যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন রোজা রাখে।
সহজ বিধান: অসুস্থ বা মুসাফির ব্যক্তির জন্য রোজা কাজা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না।
উদ্দেশ্য: যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং হিদায়াতের জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫]
৪. আল্লাহর অসীম রহমত ও পরকাল
قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰهِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِهِ الرَّحۡمَۃَ ؕ لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡهِ ؕ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ فَهُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۲﴾
আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা আছে, সব আল্লাহরই মালিকানাধীন। তিনি রহমত করাকে নিজের ওপর অবশ্য কর্তব্য হিসেবে লিখে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই কিয়ামতের দিন তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা নিজের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা এই ধ্রুব সত্যের প্রতি ঈমান আনবে না।
[সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১২]
যমযম কূপ ও কাবা ঘর নির্মাণের ঘটনা
আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর স্ত্রী বিবি হাযেরা এবং শিশুপুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-কে নিয়ে এক দীর্ঘ সফরে বের হলেন। সফর শেষে তিনি তাঁদের এমন এক জনমানবহীন ধূ ধূ মরুপ্রান্তরে রেখে আসলেন, যেখানে না ছিল কোনো মানুষ, না ছিল কোনো পানির চিহ্ন। সেটিই ছিল বর্তমানের পবিত্র মক্কা নগরী।
১. আল্লাহর ওপর অগাধ ভরসা
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁদের কাছে সামান্য কিছু খেজুর ও এক মশক পানি রেখে যখন ফিরে যেতে লাগলেন, বিবি হাযেরা ব্যাকুল হয়ে তাঁর পিছনে পিছনে ছুটতে লাগলেন। তিনি বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, “হে ইবরাহীম! এই জনহীন প্রান্তরে আমাদের একা ফেলে আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কোনো উত্তর দিচ্ছিলেন না। অবশেষে হাযেরা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহ কি আপনাকে এই কাজের নির্দেশ দিয়েছেন?” ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, “হ্যাঁ।” তখন দৃঢ় ঈমানী শক্তিতে হাযেরা আলাইহিস সালাম বললেন, “তবে আল্লাহ আমাদের কখনোই ধ্বংস করবেন না।”
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলেন, তখন কা’বার দিকে মুখ করে হাত তুলে দো’আ করলেন:
“হে আমাদের পালনকর্তা! আমি আমার বংশধরদের এক শস্যহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে আবাদ করেছি; যাতে তারা নামায কায়েম করে। অতএব তুমি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও এবং তাদের ফল-ফলাদি দ্বারা রিযিক দান করো, যেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।” (সূরা ইবরাহীম: ৩৭)
২. যমযম কূপের বিস্ময়কর প্রকাশ
কিছুদিন পর মশকের পানি ও খেজুর ফুরিয়ে গেল। তৃষ্ণায় কাতর শিশু ইসমাঈল আলাইহিস সালাম মাটিতে পড়ে ছটফট করতে লাগলেন। সন্তানের এই করুণ দশা সহ্য করতে না পেরে হাযেরা আলাইহিস সালাম পানির সন্ধানে নিকটস্থ সাফা পাহাড়ে উঠলেন। কাউকে না পেয়ে তিনি উপত্যকা দিয়ে দৌড়ে মারওয়া পাহাড়ে গেলেন। এভাবে সাহায্যের আশায় তিনি দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন।
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এ কারণেই হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার ‘সাঈ’ করা সুন্নাত।
মারওয়া পাহাড়ে থাকাকালীন তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তখন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর পায়ের গোড়ালি (বা ডানা) দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন। সাথে সাথে সেখান থেকে স্বচ্ছ পানির ধারা উথলে উঠতে লাগল। হাযেরা আলাইহিস সালাম খুশিতে পানির চারপাশে বাঁধ দিতে লাগলেন এবং মুখে বলতে লাগলেন ‘যমযম’ (থাম থাম)।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ ইসমাঈলের মায়ের ওপর রহম করুন! যদি তিনি পানি আটকে না দিতেন, তবে যমযম আজ কূপ না হয়ে একটি প্রবাহমান ঝরনা বা নদী হতো।”
৩. জুরহুম গোত্রের আগমন ও জনবসতি স্থাপন
যমযমের পানি ও পাখিদের আনাগোনা দেখে ইয়েমেনের ‘জুরহুম’ গোত্রের একদল লোক সেখানে পৌঁছাল। হাযেরা আলাইহিস সালাম-এর অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল। হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তাঁদের কাছেই আরবী ভাষা শিখলেন এবং তাঁদেরই এক কন্যার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। এর মধ্যে বিবি হাযেরা ইন্তেকাল করেন।
৪. ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর পরীক্ষা ও চৌকাঠের ঘটনা
অনেক বছর পর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর পরিবারকে দেখতে আসলেন। প্রথমবার ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-কে না পেয়ে তাঁর স্ত্রীর কাছে তাঁদের অভাব-অনটনের কথা শুনলেন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যাওয়ার সময় বলে গেলেন, “তোমার স্বামী আসলে বোলো— ঘরের চৌকাঠ যেন বদলে নেয়।” ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ফিরে এসে পিতার ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন এবং অকৃতজ্ঞ স্ত্রীকে তালাক দিলেন।
দ্বিতীয়বার যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আসলেন, তখন ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর নতুন স্ত্রী তাঁদের সচ্ছলতার কথা জানালেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁদের গোশত ও পানিতে বরকতের দোয়া করলেন এবং যাওয়ার সময় বলে গেলেন, “তোমার স্বামী আসলে বোলো— ঘরের চৌকাঠ যেন ঠিক রাখে।”
৫. কা’বা ঘর নির্মাণ
অবশেষে তৃতীয়বার এসে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশের কথা জানালেন। তাঁরা পিতা-পুত্র মিলে বর্তমানের সেই উঁচু টিলার ওপর কা’বা ঘরের দেয়াল নির্মাণ করতে লাগলেন। ইসমাঈল আলাইহিস সালাম পাথর বয়ে আনতেন আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নির্মাণ করতেন। দেয়াল উঁচু হয়ে গেলে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম একটি পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করতেন (যা এখন ‘মাক্বামে ইবরাহীম’)। নির্মাণ কাজ করার সময় তাঁরা উভয়ে মিলে এই দো’আ পড়ছিলেন:
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত।” (সূরা বাক্বারা: ১২৭)
এই ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা:
আল্লাহর ওপর ভরসা: চরম বিপদেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখলে তিনি পথ বের করে দেন।
ধৈর্য ও শুকরিয়া: কঠিন অবস্থায় ধৈর্য ধরা এবং ভালো অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাই মুমিনের গুণ।
পরিবারের জন্য দোয়া: নেক সন্তান ও পরিবারের রিযিকের জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
যৌথ প্রচেষ্টা: দ্বীনি ও সামাজিক কাজে বাবা-ছেলের মতো একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা অত্যন্ত বরকতময়।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৩৬৪ (নবীদের কাহিনী অধ্যায়)।
পান করার সুন্নাত ও আদবসমূহ
দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি কাজকেও ইবাদতে পরিণত করতে এবং এর মাধ্যমে শারীরিক কল্যাণ লাভ করতে নিচের সুন্নাহগুলো অনুসরণ করা উচিত:
১. বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা
যেকোনো পানীয় (যেমন: পানি বা দুধ) পান করার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলা সুন্নাত। এটি পানীয়তে বরকত নিয়ে আসে।
২. ডান হাত ব্যবহার করা
পান করার সময় পানপাত্র বা গ্লাস সর্বদা ডান হাত দিয়ে ধরা সুন্নাত। শয়তান বাম হাতে পানাহার করে, তাই মুমিনদের ডান হাতে পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. বসে পান করা
দাঁড়িয়ে পান না করে বসে পান করা সুন্নাত। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মিত অভ্যাস ছিল এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
৪. শ্বাস না ফেলা ও তিন ঢোক ব্যবহার করা
পান করার সময় পাত্রের ভেতরে নিঃশ্বাস ফেলা নিষেধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নিঃশ্বাসে বা এক ঢোকে পান না করে বিরতি দিয়ে অন্তত তিন ঢোকে পান করতে পছন্দ করতেন। এটি তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরের জন্য অধিক আরামদায়ক।
৫. পান শেষে শোকর আদায় করা
পান করা শেষ হলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলা সুন্নাত। যে বান্দা পানাহারের পর আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হন।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপের পরিণাম
ইসলামে মিথ্যা বলা এমনিতেই মহাপাপ, আর সেই মিথ্যা যদি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নামে হয়, তবে তার পরিনাম হয় আরও ভয়াবহ।
যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয় (যেমন: আল্লাহর কোনো সন্তান আছে বলা বা তাঁর বিধানে পরিবর্তন আনা), কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ تَرَى ٱلَّذِينَ كَذَبُواْ عَلَى ٱللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسۡوَدَّةٌۚ﴾ [الزمر: ٦٠]
“যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখমণ্ডল কালো দেখবেন।”
[সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬০]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে কোনো জাল হাদিস প্রচার করা বা তিনি যা বলেননি তা তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া কুফরীর সমতুল্য অপরাধ। এ প্রসঙ্গে নবীজি ﷺ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:
«من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار».
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করে (আমার নামে মিথ্যা কথা বলে), সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।”
[সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ১০৭]
বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. এই মিথ্যারোপের একটি প্রায়োগিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“স্মরণ রাখতে হবে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেননি তা ‘হারাম’ বলল, আর যা হালাল বলেননি তা ‘হালাল’ বলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করল এবং কুফুরী করল।”
যাঁদের হৃদয়ে কুরআন ছিল জীবনের স্পন্দন, তাঁদের কাছে তিলাওয়াত কখনো মৌসুমি আমল ছিল না—ছিল প্রতিদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো স্বাভাবিক।
ইমামে আযম আবু হানিফা (রহ.) প্রতিদিন এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আর রমাদান মাস উপস্থিত হলে তাঁর এই মুজাহাদা পৌঁছে যেত অনন্য উচ্চতায়—পুরো মাসে ষাটবার কুরআন খতম করতেন। এমনকি ঈদের দিনও থেমে থাকতেন না; অতিরিক্ত আরও দুই খতম সম্পন্ন করতেন।
— আখবারু আবি হানিফাহ, পৃ. ৫৫