১১ রমাদান

সত্যবাদিতা

সত্য মানবজীবনের মৌলিক নৈতিক ভিত্তি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবকিছুর স্থিতি নির্ভর করে সত্যের উপর। ইসলাম সত্যকে কেবল একটি নৈতিক গুণ হিসেবে নয়; বরং ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পবিত্র কুরআন বারবার সত্যবাদিতার নির্দেশ দিয়েছে এবং সত্যবাদীদের উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছে।
সত্যবাদীদের সাথে থাকার নির্দেশ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।”
(সূরা আত-তাওবা: ৯:১১৯)
এই আয়াতে সত্যকে তাকওয়ার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সত্যবাদিতা আল্লাহভীতিরই বাস্তব প্রকাশ। শুধু সত্য বলা নয়—সত্যবাদীদের সঙ্গ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সত্য একটি সামাজিক শক্তি; এটি পরিবেশ গড়ে তোলে।
সত্যবাদীদের মর্যাদা:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
“আর যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা থাকবে তাদের সাথে—যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ।”
(সূরা আন-নিসা: ৪:৬৯)
এখানে “الصِّدِّيقِينَ” (সিদ্দীকগণ) নবীদের পরেই উল্লেখিত হয়েছে। এটি সত্যবাদিতার সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রমাণ।
সত্য—নাজাতের শর্ত
আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিনের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন—
هَٰذَا يَوْمُ يَنفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ
“এ সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীদের তাদের সত্য তাদের উপকার করবে।”
(সূরা আল-মায়িদা: ৫:১১৯)
অর্থাৎ আখিরাতে সত্যই হবে মুক্তির কারণ।