১২ রমাদান

যাকাত

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা নামাযের পরেই যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন, যা এই ইবাদতের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ইবাদতকে প্রতিষ্ঠিত করে:

وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَ ارۡکَعُوۡا مَعَ الرّٰکِعِیۡنَ ﴿۴۳﴾

“আর তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা (আল্লাহর সামনে) অবনত হয়।”

[সূরা বাকারা, আয়াত: ৪৩]

মানুষ সম্পদের মোহে অনেক সময় দান-সদকায় অবহেলা করে। কিন্তু মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে সে আফসোস করবে। এ সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন:

وَ اَنۡفِقُوۡا مِنۡ مَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ فَیَقُوۡلَ رَبِّ لَوۡ لَاۤ اَخَّرۡتَنِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ﴿۱۰﴾

“আমি তোমাদের যা রিযিক দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে (মৃত্যুর সময়) বলবে— হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”

[সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ১০]

কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনই প্রকৃত পুণ্য নয়। আল্লাহ তাআলা সৎকর্মের এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিয়ে বলেছেন যে, বড় সৎকাজ হলো— আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা এবং নিজের প্রিয় সম্পদকে আল্লাহর ভালোবাসায় নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা:

ব্যয়ের খাত: আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ ব্যয় করা।

বৈশিষ্ট্য: যারা নামায পড়ে, যাকাত দেয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং দারিদ্র্য ও রোগ-শোকে ধৈর্য ধরে, তারাই হলো প্রকৃত সত্যবাদী ও মুত্তাকী। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡهَکُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ وَ الۡمَغۡرِبِ وَ لٰکِنَّ الۡبِرَّ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ وَ الۡکِتٰبِ وَ النَّبِیّٖنَ ۚ وَ اٰتَی الۡمَالَ عَلٰی حُبِّهٖ ذَوِی الۡقُرۡبٰی وَ الۡیَتٰمٰی وَ الۡمَسٰکِیۡنَ وَ ابۡنَ السَّبِیۡلِ ۙ وَ السَّآئِلِیۡنَ وَ فِی الرِّقَابِ ۚ وَ اَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَی الزَّکٰوۃَ ۚ وَ الۡمُوۡفُوۡنَ بِعَهۡدِهِمۡ اِذَا عٰهَدُوۡا ۚ وَ الصّٰبِرِیۡنَ فِی الۡبَاۡسَآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ حِیۡنَ الۡبَاۡسِ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ صَدَقُوۡا ؕ وَ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ ﴿۱۷۷﴾

 

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। (সুরা বাকারা-১৭৭)