২৬ রমাদান

মিথ্যার পরিণাম

মিথ্যা সকল পাপের মূল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মিথ্যাবাদীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের ইহকাল ও পরকালের শোচনীয় পরিণাম সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

১. ঈমানহীনতার পরিচয়

মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া কেবল একটি নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং এটি ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

اِنَّمَا یَفۡتَرِی الۡکَذِبَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۚ وَ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ ﴿۱۰۵﴾

মিথ্যা তো তারাই বানায় যারা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের ওপর ঈমান রাখে না। বস্তুত তারাই মিথ্যুক।’ [সূরা নাহল: ১০৫]

২. আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ ও ব্যর্থতা

ধর্মীয় বিধান বা হালাল-হারাম নিয়ে মনগড়া কথা বলা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করার শামিল। যারা এমনটি করে, তারা কখনোই সফল হতে পারে না। ইরশাদ হয়েছে:

وَ لَا تَقُوۡلُوۡا لِمَا تَصِفُ اَلۡسِنَتُکُمُ الۡکَذِبَ هٰذَا حَلٰلٌ وَّ هٰذَا حَرَامٌ لِّتَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰهِ الۡکَذِبَ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰهِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ﴿۱۱۶﴾ؕ

আর তোমাদের জিহ্বা দ্বারা বানানো মিথ্যার ওপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম—আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।’ [সূরা নাহল: ১১৬]

৩. অন্তরে নিফাক বা মুনাফেকীর জন্ম

মিথ্যা বলার এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে মানুষের অন্তরে মুনাফেকী স্থায়ী রূপ নিতে পারে, যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দূর হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَاَعۡقَبَهُمۡ نِفَاقًا فِیۡ قُلُوۡبِهِمۡ اِلٰی یَوۡمِ یَلۡقَوۡنَهٗ بِمَاۤ اَخۡلَفُوا اللّٰهَ مَا وَعَدُوۡهُ وَ بِمَا کَانُوۡا یَکۡذِبُوۡنَ ﴿۷۷﴾

সুতরাং পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে নিফাক (মুনাফেকী) রেখে দিলেন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে; তারা আল্লাহকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল তার কারণে।’ [সূরা তওবা: ৭৭]

উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, মিথ্যা কেবল সাময়িকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে না, বরং এটি মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে এবং তাকে চিরস্থায়ী ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। সত্যবাদিতা মুমিনের ভূষণ, আর মিথ্যা হলো মুনাফেকের প্রধান লক্ষণ।