যাকাত
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা নামাযের পরেই যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন, যা এই ইবাদতের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ইবাদতকে প্রতিষ্ঠিত করে:
وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَ ارۡکَعُوۡا مَعَ الرّٰکِعِیۡنَ ﴿۴۳﴾
“আর তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা (আল্লাহর সামনে) অবনত হয়।”
[সূরা বাকারা, আয়াত: ৪৩]
মানুষ সম্পদের মোহে অনেক সময় দান-সদকায় অবহেলা করে। কিন্তু মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে সে আফসোস করবে। এ সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন:
وَ اَنۡفِقُوۡا مِنۡ مَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ فَیَقُوۡلَ رَبِّ لَوۡ لَاۤ اَخَّرۡتَنِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ﴿۱۰﴾
“আমি তোমাদের যা রিযিক দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে (মৃত্যুর সময়) বলবে— হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”
[সূরা মুনাফিকুন, আয়াত: ১০]
কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনই প্রকৃত পুণ্য নয়। আল্লাহ তাআলা সৎকর্মের এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিয়ে বলেছেন যে, বড় সৎকাজ হলো— আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা এবং নিজের প্রিয় সম্পদকে আল্লাহর ভালোবাসায় নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা:
ব্যয়ের খাত: আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ ব্যয় করা।
বৈশিষ্ট্য: যারা নামায পড়ে, যাকাত দেয়, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং দারিদ্র্য ও রোগ-শোকে ধৈর্য ধরে, তারাই হলো প্রকৃত সত্যবাদী ও মুত্তাকী। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡهَکُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ وَ الۡمَغۡرِبِ وَ لٰکِنَّ الۡبِرَّ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ وَ الۡکِتٰبِ وَ النَّبِیّٖنَ ۚ وَ اٰتَی الۡمَالَ عَلٰی حُبِّهٖ ذَوِی الۡقُرۡبٰی وَ الۡیَتٰمٰی وَ الۡمَسٰکِیۡنَ وَ ابۡنَ السَّبِیۡلِ ۙ وَ السَّآئِلِیۡنَ وَ فِی الرِّقَابِ ۚ وَ اَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَی الزَّکٰوۃَ ۚ وَ الۡمُوۡفُوۡنَ بِعَهۡدِهِمۡ اِذَا عٰهَدُوۡا ۚ وَ الصّٰبِرِیۡنَ فِی الۡبَاۡسَآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ حِیۡنَ الۡبَاۡسِ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ صَدَقُوۡا ؕ وَ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ ﴿۱۷۷﴾
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। (সুরা বাকারা-১৭৭)
হযরত খুবায়েব রাদ্বিআল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতবরণ
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দশ জন ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসেবে সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠালেন এবং আছিম ইবনু ছাবিত আনছারী রাদ্বিআল্লাহু আনহু-কে তাঁদের নেতা নিযুক্ত করেন (যিনি ছিলেন আছিম ইবনু ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবের নানা)। তাঁরা রওনা করলেন। যখন তাঁরা উসফান ও মক্কার মাঝে ‘হাদআত’ নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন হুযায়ল গোত্রের একটি প্রশাখা—যাদের লেহইয়ান বলা হয়—তাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করে। তারা প্রায় দুইশ জন তীরন্দাজকে তাঁদের পিছু ধাওয়ার জন্য পাঠায়। এরা তাঁদের পদচিহ্ন দেখে চলতে থাকে। সাহাবীগণ মদীনা হতে সঙ্গে নিয়ে আসা খেজুর যেখানে বসে খেয়েছিলেন, অবশেষে এরা সেই স্থানের সন্ধান পেয়ে গেল। তখন তারা বলল, “এগুলো ইয়াছরিবের (মদীনা) খেজুর।” অতঃপর তারা তাঁদের পদচিহ্ন দেখে চলতে লাগল।
যখন আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহু ও তাঁর সাথীগণ এদের দেখলেন, তখন তাঁরা একটি উঁচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। আর কাফিররা তাঁদের ঘিরে ফেলল এবং তাদেরকে বলতে লাগল, “তোমরা অবতরণ করো ও স্বেচ্ছায় বন্দীত্ব বরণ করো। আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্য হতে কাউকে আমরা হত্যা করব না।” তখন গোয়েন্দা দলের নেতা আছিম ইবনু ছাবিত রাদ্বিআল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি তো আজ কাফিরদের নিরাপত্তায় অবতরণ করব না। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার নবীকে সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন।” অবশেষে কাফিররা তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল এবং তারা আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহুসহ সাত জনকে শহীদ করল।
বিশ্বাসঘাতকতা ও বন্দী জীবন
অতঃপর অবশিষ্ট তিনজন—খুবাইব আনছারী রাদ্বিআল্লাহু আনহু, যায়দ ইবনু দাছিনা রাদ্বিআল্লাহু আনহু ও অপর একজন—তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর নির্ভর করে তাদের নিকট অবতরণ করলেন। যখন কাফিররা তাঁদের আয়ত্তে নিয়ে নিল, তখন তারা তাদের ধনুকের রশি খুলে ফেলে তাঁদেরকে বেঁধে ফেলল। তখন তৃতীয় জন বলে উঠলেন, “গোড়াতেই বিশ্বাসঘাতকতা! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না, যাঁরা শহীদ হয়েছেন আমি তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করব।” ফলে তারা তাকে টেনে-হিঁচড়ে সাথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল; কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করলে কাফিররা তাঁকে শহীদ করে ফেলে এবং খুবাইব ও ইবনু দাছিনা রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে নিয়ে চলে যায়। অবশেষে তাদের উভয়কে মক্কায় বিক্রয় করে ফেলে।
এটি ছিল বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। তখন খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে হারিছ ইবনু আমিরের পুত্রগণ ক্রয় করে নেয়। আর বদর যুদ্ধের দিন খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহু হারিছ ইবনু আমিরকে হত্যা করেছিলেন। খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহু কিছু দিন তাদের নিকট বন্দী থাকেন। ইবনু শিহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ওবায়দুল্লাহ ইবনু ইয়ায তাঁকে অবহিত করেছেন যে, হারিছের কন্যা তাঁকে জানিয়েছে—যখন হারিছের পুত্রগণ খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তাঁর কাছ থেকে ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটা ক্ষুর চাইলেন। হারিছের কন্যা তাঁকে একখানা ক্ষুর ধার দিল। সে সময় ঘটনাক্রমে হারিছের কন্যার এক ছেলে তাঁর অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে গেলে তিনি তাকে ধরেন। হারিছের কন্যা দেখলেন যে, তাঁর ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। তিনি খুব ভয় পেয়ে গেলেন। খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহু তাঁর চেহারা দেখে তা বুঝতে পারলেন এবং বললেন, “তুমি কি এ ভয় করছ যে, আমি এ শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? কখনো আমি তা করব না।” হারিছের কন্যা বলতেন, “আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মতো উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদা দেখলাম, তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া হতে আঙ্গুর খাচ্ছেন, যা তাঁর হাতেই ছিল। অথচ এ সময় মক্কায় কোনো ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না।” এটি ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে দান করেছিলেন।
শেষ সালাত ও শাহাদাত
অতঃপর তারা খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে হারামের নিকট হতে হিল্লের দিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তখন খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহু তাদেরকে বললেন, “আমাকে দু’রাক’আত সালাত আদায় করতে দাও।” তারা তাঁকে অনুমতি দিল। তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “তোমরা যদি ধারণা না করতে যে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি, তবে আমি সালাতকে দীর্ঘ করতাম। হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে ধ্বংস করুন।” অতঃপর তিনি এই কবিতা দু’টি আবৃত্তি করলেন:
“আমি কোনো কিছুরই পরোয়া করি না যখন আমি মুসলিম হিসাবে নিহত হই,
আল্লাহর রাহে যেভাবেই আমাকে পর্যদুস্ত করা হোক, তা কেবল আল্লাহর জন্যই করা হচ্ছে।
তিনি ইচ্ছা করলে আমার বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সমূহে বরকত দান করবেন।”
অবশেষে হারিছের পুত্র তাঁকে শহীদ করে ফেলে। বস্তুত যে মুসলিম ব্যক্তিকে বন্দী অবস্থায় শহীদ করা হয়, তাঁর জন্য দু’রাক’আত সালাত আদায়ের এ রীতি খুবাইব রাদ্বিআল্লাহু আনহু-ই প্রবর্তন করে গেছেন।
আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহু-এর লাশ সুরক্ষা
যেদিন আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহু শাহাদতবরণ করেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর দোআ কবুল করেছিলেন। সেদিনই আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে তাঁদের সংবাদ ও তাঁদের উপর যা যা আপতিত হয়েছিল সবই অবহিত করেছিলেন। আর যখন কুরাইশ কাফিরদের সংবাদ দেওয়া হলো যে আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে শহীদ করা হয়েছে, তখন তারা তাঁর কাছে এক লোককে পাঠাল যাতে সে তাঁর লাশ হতে কিছু অংশ কেটে নিয়ে আসে। কারণ বদর যুদ্ধের দিন আছিম রাদ্বিআল্লাহু আনহু কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু আছিমের লাশের রক্ষার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে মৌমাছির ঝাঁক প্রেরিত হলো, যারা তাঁর দেহ আবৃত করে রেখে কাফিরদের ষড়যন্ত্র হতে হেফাযত করল। ফলে তারা তাঁর শরীর হতে এক খণ্ড গোশতও কেটে নিতে পারেনি।
[সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৪৫ ও ৪০৩৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৭৯১৫]
ফজরের নামাজের পর বসে থাকার সুন্নাত ও ফযীলত
ফজরের সালাত শেষে দ্রুত উঠে না গিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করা নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি নিয়মিত ও প্রিয় আমল ছিল।
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ আদায় করতেন, তখন তিনি তাঁর নামাজের স্থানেই বসে থাকতেন যতক্ষণ না সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত হতো। তিনি এই সময়টুকু জিকির-আযকার ও আল্লাহর স্মরণে অতিবাহিত করতেন।
২. ফেরেশতাদের দোয়া লাভের মাধ্যম
মসজিদে নামাজের আগে ও পরে অপেক্ষা করার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া লাভ করা। যারা এই সময়টুকুতে মসজিদে বসে থাকেন, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের তাঁদের জন্য নিম্নোক্ত দোয়া করার নির্দেশ দেন:
اللَّهُمَّ اغْفِر لَهُ (হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন)।
اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ (হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি রহম করুন)।
৩. এই সময়ের গুরুত্ব
বরকতময় সময়: দিনের শুরুর এই সময়টি অত্যন্ত বরকতময়। এই সময়ে জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে দিন শুরু করলে সারাদিনের কাজে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়।
ইবাদতের সওয়াব: নামাজের পর একস্থানে বসে জিকির করাকে হাদিসের পরিভাষায় নামাজের ভেতরে থাকার মতোই গণ্য করা হয়েছে।
মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া
যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তারা কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। আল্লাহ তাআলা তাদের গুণ বর্ণনা করে বলেন:
وَ الَّذِیۡنَ لَا یَشۡهَدُوۡنَ الزُّوۡرَ ۙ ﴿۷۲﴾
“তারা মিথ্যা ও বাতিল কাজে যোগদান করে না (মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না)।”
[সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭২]
রাসূলুল্লাহ ﷺ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে অন্যতম ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন:
«ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ الإشراك بالله وعقوق الوالدين وقول الزور».
“আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে অবগত করব না? তা হলো— আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা।”
[সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৪৬০]
হাদিসের খিদমতে যাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছে, তিনিও রমাদান এলে কুরআনের সান্নিধ্যেই খুঁজে নিতেন তাঁর প্রশান্তি ও পরিপূর্ণতা।
ইমাম বুখারী (রহ.) রমাদান মাসে প্রতিদিন এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করতেন। শুধু তাই নয়—তারাবীহর পর নামাযে দাঁড়িয়ে প্রতি তিন দিনে একবার পূর্ণ কুরআন খতম সম্পন্ন করতেন। দিন হতো তিলাওয়াতে ভরা, আর রাত ভিজত কিয়াম ও আয়াতের নূরে।
— ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৪৩৯