সদকাহ: ইসলামে দানের গুরুত্ব
ইসলামে সদকাহ বা দান এমন একটি আমল, যা শুধু অর্থ প্রদান নয়, বরং এটি একজন মুসলিমের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে ন্যায় ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। কুরআন মজীদ সদকাহের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ”
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত সৎ সম্পদ থেকে এবং যা আমরা তোমাদের জন্য পৃথিবী থেকে উদ্ভূত করেছি, তার মধ্যে থেকে খরচ কর।” — [সুরা আল-বাকারাহ :২৬৭]
এই আয়াত নির্দেশ করে যে, দান কেবল সম্পদ ব্যয় করা নয়, বরং সেই সম্পদ হতে হবে সৎ ও পরিশুদ্ধ। এটি মানুষের হৃদয়কে দুনিয়ার দম্ভ ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে।
সদকাহ দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। কুরআনে বলা হয়েছে:
“لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ”
অর্থ: “তোমরা কখনই প্রকৃত কল্যাণ লাভ করবে না যতক্ষণ না তুমি তোমার প্রিয় বস্তু থেকে খরচ করবে।” — [সুরা আল-আম্বিয়া:৯४]
এটি স্পষ্ট করে যে, নিজের প্রিয় সম্পদ বা সময়, যা আমাদের কাছে মূল্যবান, তা অন্যের জন্য ব্যয় করাই আসল সদকাহ।
সদকাহ সামাজিক সমতা বজায় রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কুরআন বলে:
“خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا”
অর্থ: “তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদকাহ নাও, যাতে তা তাদেরকে পরিশুদ্ধ ও উন্নত করে।” — [সুরা আত-তওবা :১০৩]
এটি বোঝায় যে দান শুধু দারিদ্র দূর করার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আল্লাহ তাআলা দানকে একটি বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার প্রতিদান আখিরাতে অসীম। কুরআনে উল্লেখ আছে:
“مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ”
অর্থ: “যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ এমন যে একটি বীজ থেকে সাতটি শিষ ফলায়, প্রত্যেক শিষে শত গুণ বৃদ্ধি ঘটে।” — [সুরা আল-বাকারাহ:২৬১]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সদকাহ আমাদের অর্জিত সম্পদের মুনাফা আখিরাতে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।
তওবার অপূর্ব নিদর্শন
একদা মা’য়িয বিন মালিক (রাদ্বিআল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে পবিত্র করুন’। তিনি বললেন, ‘ধিক তোমাকে! তুমি চলে যাও। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তওবা করো।’ বর্ণনাকারী বলেন, তিনি চলে গেলেন এবং সামান্য একটু দূরে গিয়ে পুনরায় ফিরে আসলেন এবং আবারও বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে পবিত্র করুন’। রাসূলুল্লাহ ﷺ এবারও তাকে পূর্বের ন্যায় বললেন। এভাবে তিনি যখন চতুর্থ বার এসে বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি তোমাকে কোন জিনিস হতে পবিত্র করব?’ তিনি বললেন, ‘যেনা হতে’।
তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ (সাহাবীগণকে রাদ্বিআল্লাহু আনহুম) জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ লোকটি কি পাগল?’ লোকেরা বলল, ‘না, সে পাগল নয়।’ তিনি আবার বললেন, ‘লোকটি কি মদ পান করেছে?’ তৎক্ষণাৎ এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার মুখ শুঁকে তার মুখ হতে মদের কোন গন্ধ পেল না। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সত্যিই যেনা করেছ?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ’। এরপর তিনি রজমের নির্দেশ দিলেন, তখন তাকে রজম করা হল। এ ঘটনার দু’তিন দিন পর রাসূলুল্লাহ ﷺ (সাহাবীগণের রাদ্বিআল্লাহু আনহুম নিকট) এসে বললেন, ‘তোমরা মা’য়িয বিন মালিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘তখন সাহাবীগণ (রাদ্বিআল্লাহু আনহুম) বললেন, আল্লাহ মা’য়িয বিন মালিককে ক্ষমা করুন।’ এরপর রাসূল ﷺ বললেন, ‘সে এমন তওবা করেছে, যদি তা সমস্ত উম্মতের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়, তবে তা সকলের জন্য যথেষ্ট হবে।’
এরপর আযদ বংশের গামেদী গোত্রীয় এক মহিলা এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে পবিত্র করুন।’ তিনি বললেন, ‘ধিক তোমাকে! তুমি চলে যাও। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তওবা কর।’ তখন মহিলাটি বলল, ‘আপনি মা’য়িয বিন মালিককে যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমাকেও কি সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান? আমার গর্ভের এই সন্তান যেনার’। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি (সত্যই অন্তঃসত্তা)?’ মহিলাটি বলল, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেন, ‘যাও, তোমার পেটের বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর’।
বর্ণনাকারী বলেন, ‘আনছারী এক লোক মহিলাটির সন্তান হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে গেলেন। সন্তান প্রসব হওয়ার পর ঐ লোকটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খেদমতে এসে বলল, গামেদী মহিলাটি সন্তান প্রসব করেছে।’ এবার তিনি ﷺ বললেন, ‘এ শিশু বাচ্চাটিকে রেখে আমরা মহিলাটিকে রজম (পাথর মেরে হত্যা) করতে পারি না। কারণ তাকে দুধ পান করানোর মতো কেউ নেই।’ এ সময় জনৈক আনছারী দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করব’। রাবী বলেন, তখন তিনি তাকে রজম করলেন।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মহিলাটিকে বললেন, ‘তুমি চলে যাও এবং সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর’। অতঃপর সন্তান প্রসবের পর যখন সে আসল, তখন তিনি বললেন, ‘আবার চলে যাও এবং তাকে দুধ পান করাও এবং দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা কর।’ পরে যখন বাচ্চাটির দুধ খাওয়া বন্ধ হয়, তখন মহিলাটি বাচ্চার হাতে এক খণ্ড রুটির টুকরা দিয়ে তাকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খেদমতে হাযির হল। এবার মহিলাটি এসে বলল, ‘হে আল্লাহর নবী! এই দেখুন আমি তাকে দুধ ছাড়িয়েছি, এমনকি সে নিজে হাতে খানাও খেতে পারে’। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বাচ্চাটিকে একজন মুসলমানের হাতে তুলে দিলেন। পরে মহিলাটির জন্য গর্ত খোঁড়ার নির্দেশ দিলেন। তার জন্য বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করা হল। এরপর জনগণকে নির্দেশ দিলেন, তারা মহিলাটিকে রজম করল।
খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাদ্বিআল্লাহু আনহু) সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার মাথায় এক খণ্ড পাথর নিক্ষেপ করলে রক্ত ছিটে এসে তার মুখমণ্ডলের উপর পড়ল। তখন তিনি মহিলাটিকে গাল-মন্দ করলেন। তা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘থাম, হে খালেদ! যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, এই মহিলা এমন তওবা করেছে, যদি রাজস্ব আদায়ে কারচুপিকারী ব্যক্তিও এমন তওবা করত, তাহলে তাকেও ক্ষমা করা হত’। অতঃপর তিনি ঐ মহিলার জানাযার ছালাত আদায়ের আদেশ দিলেন এবং নিজে তার জানাযা পড়লেন। অতঃপর তাকে দাফন করা হল।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার জানাযা পড়লে ওমর (রাদ্বিআল্লাহু আনহু) বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি তার জানাযা পড়লেন? অথচ সে যেনা করেছে?’ জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘এ মহিলা এমন তওবা করেছে যে, তা সত্তর জন মদীনাবাসীর মধ্যে বণ্টন করে দিলেও যথেষ্ট হয়ে যেত। তুমি কি এর চাইতে উত্তম কোন তওবা পাবে, যে ব্যক্তি স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে?’।
[মুসলিম হাদিস: ১৬৯৫-৯৬, মিশকাত হাদিস: ৩৫৬২]
আল্লাহকে স্মরণে সুন্নাহ ও যিকিরের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলার যিকির বা স্মরণ মুমিনের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যিকিরের গুরুত্ব ও এ সংক্রান্ত লক্ষণীয় বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ইবাদতের মূল ভিত্তি:
আল্লাহর স্মরণ হলো সমস্ত ইবাদতের মূল ভিত্তি। এটি যে কোনো অবস্থায় এবং যে কোনো সময়ে বান্দার সাথে তার স্রষ্টার সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয়। উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন। আল্লাহর সাথে এই গভীর সম্পর্কই হলো প্রকৃত জীবন এবং তাঁর নৈকট্য লাভই হলো জীবনের আসল সফলতা। এটি মানুষকে পথভ্রষ্টতা ও চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
২. মুমিন ও মুনাফিকের পার্থক্যকারী:
যিকির মুমিন বান্দাকে মুনাফিকদের থেকে আলাদা করে চেনার একটি অন্যতম মাধ্যম। কারণ, মুনাফিকদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে।
৩. শয়তানের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কবচ:
মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত বা অমনোযোগী হয়, তখনই কেবল শয়তান তার ওপর জয়লাভ করতে পারে। তাই আল্লাহর যিকির হলো শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল বা সুরক্ষার মতো।
৪. অন্তরের প্রশান্তি ও সুখের উৎস:
যিকির বা আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে বান্দার প্রকৃত সুখ ও মানসিক প্রশান্তি লাভের একমাত্র উপায়।
৫. সময়ের গুরুত্ব ও জান্নাতীদের আফসোস:
আল্লাহকে সর্বদা স্মরণ করা উচিত। বর্ণিত আছে যে, জান্নাতে যাওয়ার পর বান্দার মনে আর কোনো দুঃখ থাকবে না, শুধু একটি আফসোস ছাড়া—আর তা হলো দুনিয়ার ওই সময়টুকু যা সে আল্লাহর স্মরণ ছাড়াই কাটিয়েছিল।
৬. আল্লাহর দরবারে বান্দার আলোচনা:
যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ নিজেও তাকে স্মরণ করেন। দুনিয়ার কোনো সাধারণ শাসক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি কারো নাম নিয়ে আলোচনা বা প্রশংসা করেন, তবে সেই ব্যক্তি অত্যন্ত আনন্দিত হয়। তাহলে ভাবুন, মহাবিশ্বের মহান প্রতিপালক আল্লাহ যখন তাঁর ফেরেশতাদের সমাবেশে কোনো বান্দার নাম নিয়ে আলোচনা করেন, তা কত বড় সৌভাগ্যের বিষয়!
৭. যিকিরের সঠিক পদ্ধতি:
যিকির মানে কেবল উদাসীনভাবে জিহ্বা দিয়ে দু-একটি শব্দ উচ্চারণ করা নয়। যিকির তখনই সার্থক হয় যখন হৃদয় আল্লাহর মহত্ত্ব ও আনুগত্যের প্রতি সজাগ থাকে। তাই জিহ্বা দিয়ে যিকির করার সময় অবশ্যই এর অর্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া এবং অন্তরকে সেই স্মরণে শামিল করা অপরিহার্য।
মাদক বিষয়ে ইসলামের বিধান
ইসলামী জীবনদর্শনে মানুষের আত্মিক ও শারীরিক কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে এর ভয়াবহতা নিচে তুলে ধরা হলো: আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনে মদ, জুয়া এবং শিরকপূর্ণ কাজগুলোকে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সূরা আল-মায়েদাহ’র ৯০ নম্বর আয়াতে তিনি বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّمَا الۡخَمۡرُ وَ الۡمَیۡسِرُ وَ الۡاَنۡصَابُ وَ الۡاَزۡلَامُ رِجۡسٌ مِّنۡ عَمَلِ الشَّیۡطٰنِ فَاجۡتَنِبُوۡهُ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ﴿۹۰﴾
“হে মুমিনগণ! এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।”
মাদক কেবল নির্দিষ্ট কোনো পানীয় নয়, বরং যা মানুষকে নেশাগ্রস্ত করে তার সবই নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্পষ্ট করে বলেছেন:
«كل مسكر خمر وكل خمر حرام».
“প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হলো মদ, আর সকল প্রকার মদ হারাম।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৩৪।]
মাদক কেবল পান করাই অপরাধ নয়, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পুরো চক্রটিই অভিশপ্ত। আবু দাউদ শরীফের হাদীস অনুযায়ী:
«لعن الله الخمر وشاربها سافيها وبائعها ومتبائعنا وعاصرها ومعتصرها وحاملها والمحمولة إليه وآكل ثمنها».
আল্লাহ তা’আলা মদ পানকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, প্রস্তুতকারী, বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয় এবং এর লভ্যাংশ ভোগকারী—সকলের ওপর অভিসম্পাত দিয়েছেন।
(আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৮৯)
রমাদান এলে অনেকেই দুনিয়ার ব্যস্ততা গুটিয়ে নিতেন, আর আশ্রয় নিতেন মসজিদের নিভৃত কোণে—কুরআন ও ইতিকাফের সান্নিধ্যে।
কাসেম ইবনু আলী (রহ.) বর্ণনা করেন—তাঁর পিতা ইবনু আসাকির (রহ.) রমাদান মাসে প্রতিদিন একবার পূর্ণ কুরআন খতম করতেন। আর তিনি পূর্ব মিনারায় ইতিকাফ করতেন—নিভৃতে, একান্তে, তিলাওয়াত ও ইবাদতে নিমগ্ন হয়ে।
— ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ২০/৫৬২
এভাবেই রমাদান তাঁদের জীবনে হয়ে উঠত নির্জন সাধনার মাস—যেখানে আয়াত ছিল সঙ্গী, আর ইতিকাফ ছিল হৃদয়ের প্রশান্ত আশ্রয়।