১৩ রমাদান

সদকাহ: ইসলামে দানের গুরুত্ব

ইসলামে সদকাহ বা দান এমন একটি আমল, যা শুধু অর্থ প্রদান নয়, বরং এটি একজন মুসলিমের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে ন্যায় ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। কুরআন মজীদ সদকাহের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ”

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত সৎ সম্পদ থেকে এবং যা আমরা তোমাদের জন্য পৃথিবী থেকে উদ্ভূত করেছি, তার মধ্যে থেকে খরচ কর।” — [সুরা আল-বাকারাহ :২৬৭]
এই আয়াত নির্দেশ করে যে, দান কেবল সম্পদ ব্যয় করা নয়, বরং সেই সম্পদ হতে হবে সৎ ও পরিশুদ্ধ। এটি মানুষের হৃদয়কে দুনিয়ার দম্ভ ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে।

সদকাহ দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম। কুরআনে বলা হয়েছে:
“لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ”

অর্থ: “তোমরা কখনই প্রকৃত কল্যাণ লাভ করবে না যতক্ষণ না তুমি তোমার প্রিয় বস্তু থেকে খরচ করবে।” — [সুরা আল-আম্বিয়া:৯४]
এটি স্পষ্ট করে যে, নিজের প্রিয় সম্পদ বা সময়, যা আমাদের কাছে মূল্যবান, তা অন্যের জন্য ব্যয় করাই আসল সদকাহ।

সদকাহ সামাজিক সমতা বজায় রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কুরআন বলে:
“خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا”

অর্থ: “তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদকাহ নাও, যাতে তা তাদেরকে পরিশুদ্ধ ও উন্নত করে।” — [সুরা আত-তওবা :১০৩]
এটি বোঝায় যে দান শুধু দারিদ্র দূর করার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আল্লাহ তাআলা দানকে একটি বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার প্রতিদান আখিরাতে অসীম। কুরআনে উল্লেখ আছে:
“مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ”

অর্থ: “যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ এমন যে একটি বীজ থেকে সাতটি শিষ ফলায়, প্রত্যেক শিষে শত গুণ বৃদ্ধি ঘটে।” — [সুরা আল-বাকারাহ:২৬১]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সদকাহ আমাদের অর্জিত সম্পদের মুনাফা আখিরাতে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।