১৫ রমাদান

জাহান্নাম

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মহান আল্লাহ তা‘আলা সত্য অস্বীকারকারী ও জালেমদের জন্য নির্ধারিত জাহান্নামের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন। এই আয়াতগুলো মূলত মানুষের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।

আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন যে,

سَنُلۡقِیۡ فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الرُّعۡبَ بِمَاۤ اَشۡرَکُوۡا بِاللّٰهِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِهٖ سُلۡطٰنًا ۚ وَ مَاۡوٰىهُمُ النَّارُ ؕ وَ بِئۡسَ مَثۡوَی الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۱۵۱﴾

যারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁর একত্ববাদকে অস্বীকার করে অন্যকে তাঁর অংশীদার (শিরক) বানায়, অচিরেই তিনি তাদের অন্তরে এক গভীর ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করবেন। দুনিয়াতে লাঞ্ছনার পাশাপাশি পরকালে তাদের চূড়ান্ত আবাস হবে জাহান্নামের লেলিহান আগুন। বস্তুত, জালেমদের জন্য এর চেয়ে নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর ঠিকানা আর কিছুই হতে পারে না। (সূরা আলে ইমরান: ১৫১)

জাহান্নামের শাস্তি কেবল শারীরিক যন্ত্রণাই নয়, বরং এটি এক চরম মানসিক লাঞ্ছনাও বটে। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় মুমিনদের একটি প্রার্থনা এভাবে এসেছে—

رَبَّنَاۤ اِنَّکَ مَنۡ تُدۡخِلِ النَّارَ فَقَدۡ اَخۡزَیۡتَهٗ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ اَنۡصَارٍ ﴿۱۹۲﴾

হে আমাদের রব! আপনি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করলেন, তাকে মূলত আপনি চিরতরে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করলেন। সেদিন সেই অপরাধী জালেমদের বাঁচাতে কোনো সাহায্যকারী বা বন্ধু এগিয়ে আসবে না। (সূরা আলে ইমরান: ১৯২)

যারা মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অগ্রাহ্য করে, তাদের শাস্তির তীব্রতা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন—

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِنَا سَوۡفَ نُصۡلِیۡهِمۡ نَارًا ؕ کُلَّمَا نَضِجَتۡ جُلُوۡدُهُمۡ بَدَّلۡنٰهُمۡ جُلُوۡدًا غَیۡرَهَا لِیَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ﴿۵۶﴾

অচিরেই তিনি তাদের জাহান্নামের আগুনে জ্বালিয়ে দেবেন। আগুনের প্রচণ্ড তাপে যখন তাদের শরীরের চামড়াগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, তখন তিনি পুনরায় সেখানে নতুন চামড়া সৃষ্টি করে দেবেন। এই ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে যেন তারা প্রতি মুহূর্তে শাস্তির পূর্ণ স্বাদ অনুভব করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ চির শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান। (সূরা নিসা: ৫৬)