১৬ রমাদান

আল্লাহর ক্ষমা ও করুণা

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অসীম ক্ষমা ও দয়ার কথা উল্লেখ করে মুমিনদের আশান্বিত করেছেন। নিচে আয়াতগুলোর মর্মবাণী অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরা হলো:

আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন যে,

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ الَّذِیۡنَ هَاجَرُوۡا وَ جٰهَدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ۙ اُولٰٓئِکَ یَرۡجُوۡنَ رَحۡمَتَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۲۱۸﴾

যারা সত্যের ওপর ঈমান এনেছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা প্রিয় জন্মভূমি ত্যাগ (হিজরত) করেছে এবং তাঁর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা বা জিহাদ করেছে—তারাই মূলত আল্লাহর রহমতের প্রকৃত প্রত্যাশী। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা বাকারা: ২১৮)

মানুষের ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, তাই মহান আল্লাহ তাঁর নিকট ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:

وَّ اسۡتَغۡفِرِ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿۱۰۶﴾ۚ

“আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নিসা: ১০৬)

আল্লাহর ক্ষমা কেবল নেককারদের জন্যই নয়, বরং যারা ভুল পথে চলে গিয়েছিল তাদের জন্যও তাঁর দয়ার দ্বার উন্মুক্ত। তিনি ইরশাদ করেন:

اِلَّا مَنۡ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنًۢا بَعۡدَ سُوۡٓءٍ فَاِنِّیۡ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۱﴾

“তবে যে জুলুম করে, তারপর অসৎকাজের পরিবর্তে সৎকাজ করে (অর্থাৎ তওবা করে নিজেকে সংশোধন করে নেয়), তবে অবশ্যই আমি অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নমল: ১১)

ইবাদত পালন বা হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল শেষেও আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন—

ثُمَّ اَفِیۡضُوۡا مِنۡ حَیۡثُ اَفَاضَ النَّاسُ وَ اسۡتَغۡفِرُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۹۹﴾

অতঃপর তোমরা অন্য মানুষের মতো (আরাফাত থেকে) প্রত্যাবর্তন করো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা বাকারা: ১৯৯)