২৩ রমাদান

সুদ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং এর ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করেছেন।

১. সুদখোরদের শোচনীয় অবস্থা

কেয়ামতের দিন সুদখোরদের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

اَلَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَیۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا ۘ وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ فَمَنۡ جَآءَهٗ مَوۡعِظَۃٌ مِّنۡ رَّبِّهٖ فَانۡتَهٰی فَلَهٗ مَا سَلَفَ ؕ وَ اَمۡرُهٗۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ وَ مَنۡ عَادَ فَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۷۵﴾

কিন্তু যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় ঠিক সেই লোকটির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। তাদের এই অবস্থায় উপনীত হবার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলে “ব্যবসা তো সুদেরই মতো।” অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই নসীহত পৌঁছে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদখোরী থেকে সে বিরত হয়, সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে। আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে, সে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে সে থাকবে চিরকাল। (সূরা বাকারা-২৭৫)

২. সুদের পরিণাম ও দানে বরকত

সুদ সম্পদের বাহ্যিক বৃদ্ধি ঘটালেও আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন, অন্যদিকে দান-সদকায় বরকত দান করেন:

یَمۡحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَ یُرۡبِی الصَّدَقٰتِ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ کُلَّ کَفَّارٍ اَثِیۡمٍ ﴿۲۷۶﴾

আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন। আর আল্লাহ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা বাকারা-২৭৬)

৩. মুমিনদের প্রতি নির্দেশ

ঈমান আনয়নের পর সুদের সকল কারবার ত্যাগ করা অপরিহার্য। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ ذَرُوۡا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ﴿۲۷۸﴾

 “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকদের কাছে তোমাদের যে সুদ বাকি রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও, যদি যথার্থই তোমরা ঈমান এনে থাকো।” [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭৮]

৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

সুদের কারবার অব্যাহত রাখা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এটি ইসলামের অন্যতম কঠোরতম হুঁশিয়ারি:

فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا فَاۡذَنُوۡا بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ ۚ وَ اِنۡ تُبۡتُمۡ فَلَکُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِکُمۡ ۚ لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَ لَا تُظۡلَمُوۡنَ ﴿۲۷۹﴾

“কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো তাহলে জেনে রাখো, এটা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এখনো তাওবা করে নাও (এবং সুদ ছেড়ে দাও) তাহলে তোমরা আসল মূলধনের অধিকারী হবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপর জুলুম করাও হবে না।” [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৭৯]

উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, সুদ কেবল অর্থনৈতিক শোষণের মাধ্যম নয়, বরং এটি পরকালের চিরস্থায়ী আজাবের কারণ এবং মহান আল্লাহর সাথে সরাসরি যুদ্ধের শামিল।