পর্দা
পর্দা ও শালীনতা প্রসঙ্গে কুরআনের বিধান
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের পোশাক, লজ্জা এবং পর্দার বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
১. পোশাকের উদ্দেশ্য ও তাকওয়ার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জন্য পোশাকের প্রয়োজনীয়তা ও শ্রেষ্ঠ পোশাক সম্পর্কে বলেন:
یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَ رِیۡشًا ؕ وَ لِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ ؕ ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ ﴿۲۶﴾
“হে বনী-আদম! আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজসজ্জার বস্ত্র। তবে পরহেযগারীর (তাকওয়ার) পোশাকই হলো সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।” [সূরা আরাফ, আয়াত: ২৬]
২. মুমিন পুরুষদের প্রতি নির্দেশনা
পর্দার বিধান কেবল নারীদের জন্য নয়, বরং আল্লাহ প্রথমে পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দিয়েছেন:
قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِهِمۡ وَ یَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَهُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَزۡکٰی لَهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ ﴿۳۰﴾
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।” [সূরা নূর, আয়াত: ৩০]
৩. মুমিন নারীদের প্রতি নির্দেশনা ও পর্দার পরিসীমা
নারীদের পর্দা ও সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত বিধি-নিষেধ আরোপ করে আল্লাহ বলেন:
وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِهِنَّ ۪ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اٰبَآئِهِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآئِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اَخَوٰتِهِنَّ اَوۡ نِسَآئِهِنَّ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِیۡنَ غَیۡرِ اُولِی الۡاِرۡبَۃِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَظۡهَرُوۡا عَلٰی عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَ لَا یَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِهِنَّ لِیُعۡلَمَ مَا یُخۡفِیۡنَ مِنۡ زِیۡنَتِهِنَّ ؕ وَ تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیۡعًا اَیُّهَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ﴿۳۱﴾
আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা নুর-৩১)
এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা নারী ও পুরুষ উভয়ের ঈমানের দাবি এবং এটি অন্তরের পবিত্রতা ও চারিত্রিক হিফাযতের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিধান।
সৃষ্টজীবের প্রতি দয়া
সৃষ্টিজগতের প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া ও মায়া প্রদর্শন করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি ভিন্ন মানুষের গল্পের মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সামান্য একটি কাজ পরকালে বিশাল প্রাপ্তি বা ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
১. বিড়াল ও একজন নিষ্ঠুর নারীর পরিণতি
এক মহিলার গল্প এটি, যাকে আল্লাহ তাআলা অনেক নেয়ামত দিয়েছিলেন, কিন্তু তার হৃদয়ে পশুর প্রতি কোনো মায়া ছিল না। সে একটি বিড়ালকে ঘরে আটকে রেখেছিল। বিড়ালটিকে সে নিজের পক্ষ থেকে কোনো খাবার বা পানীয় দেয়নি, আবার তাকে ছেড়েও দেয়নি যাতে সে বাইরে গিয়ে যমীনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন বাঁচাতে পারে। অবলা প্রাণীটি ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে একসময় মারা যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এই নিষ্ঠুরতার কারণে সেই নারী আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। সামান্য একটি বিড়ালের প্রতি এই অমানবিক আচরণ তার জীবনের অন্যান্য ভালো কাজকে ম্লান করে দিয়েছিল।
২. পিপাসার্ত কুকুর ও একজন নারীর মুক্তি
অন্য একটি গল্প এক নারীর, যার জীবন ছিল পাপে ঘেরা। একদিন সে এক মরুভূমি দিয়ে যাচ্ছিল। প্রচণ্ড গরমে সে দেখতে পেল একটি কুকুর তৃষ্ণায় কাতর হয়ে একটি কূপের পাশে বসে হাঁপাচ্ছে। কুকুরটির অবস্থা এমন ছিল যে, পানি না পেলে সে এখনই মারা যাবে।
নারীটির হৃদয়ে দয়ার উদ্রেক হলো। কিন্তু কূপ থেকে পানি তোলার মতো কোনো বালতি বা রশি তার কাছে ছিল না। সে দমে না গিয়ে নিজের পায়ের চামড়ার মোজা খুলল এবং মাথার ওড়না দিয়ে তা বেঁধে কূপে নামিয়ে দিল। এভাবে পানি তুলে সে পরম মমতায় কুকুরটিকে পান করাল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সামান্য একটি তৃষ্ণার্ত প্রাণীর প্রতি এই অকৃত্রিম দয়া আল্লাহর কাছে এতই পছন্দ হলো যে, তিনি সেই নারীর জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিলেন এবং তাকে জান্নাতী হিসেবে কবুল করলেন।
(বুখারি হাদিস: ৩৩২১ ‘সৃষ্টির সূচনা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৭, মিশকাত হাদিস: ১৯০২)
ইস্তিঞ্জা বা পেশাব-পায়খানার সুন্নাত ও আদব
ইসলামি শরিয়তে পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। দৈনন্দিন প্রয়োজনে পেশাব-পায়খানা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো সুন্নাত ও আদবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রবেশের পূর্বের প্রস্তুতি ও আদব
* মাথা ও পা ঢাকা: পেশাব-পায়খানায় যাওয়ার সময় মাথা ঢেকে রাখা এবং পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল পরিধান করা সুন্নাত।
* দোয়া পড়া: প্রবেশ করার পূর্বে বিসমিল্লাহসহ এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাত—
بِسْمِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
(অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি; হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।)
* প্রবেশের নিয়ম: দোয়া পড়ার পর প্রথমে বাম পা দিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করতে হয়।
২. বসা ও কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম
* কিবলার সম্মান: কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা নিষেধ।
* পজিশন: বসার খুব নিকটবর্তী হয়ে সতর খোলা এবং বসে পেশাব-পায়খানা করা সুন্নাত। বিশেষ কারণ ছাড়া দাঁড়িয়ে পেশাব করা বর্জনীয়।
* সতর্কতা: পেশাবের ছিটা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। হাদীস অনুযায়ী, কবরের অধিকাংশ আযাব পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে না থাকার কারণে হয়ে থাকে।
* ডান হাতের ব্যবহার বর্জন: পেশাব-পায়খানার সময় বা পরিষ্কার হতে ডান হাত ব্যবহার করা বা ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা নিষেধ। এক্ষেত্রে বাম হাত ব্যবহার করা সুন্নাত।
৩. পবিত্রতা অর্জন (কুলুখ ও পানি)
* কুলুখের ব্যবহার: পানি ব্যবহারের আগে মাটির ঢিলা বা টিস্যু (কুলুখ) ব্যবহার করা সুন্নাত।
* স্থান নির্বাচন: বাইরে পেশাব করতে হলে এমন নরম স্থান বেছে নেওয়া উচিত যেন ছিটা শরীরে না লাগে।
৪. বের হওয়া ও পরবর্তী আদব
* বের হওয়ার নিয়ম: বাথরুম থেকে ডান পা আগে দিয়ে বের হওয়া সুন্নাত।
* বের হওয়ার দোয়া: বের হওয়ার পর এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাত—
غُفْرَانَكَ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِيْ
(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি আমার কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে মুক্তি দিয়েছেন।)
৫. নির্জনতা অবলম্বন
খোলা মাঠে বা নির্জনে ইস্তিঞ্জা করতে হলে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে থাকা এবং যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই সুন্নাতগুলো পালনের মাধ্যমে যেমন শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়, তেমনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা সম্ভব।
পরনিন্দা ও চোগলখুরির ভয়াবহ পরিণাম
ইসলামে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক শান্তি বিনষ্টকারী গুনাহগুলোর মধ্যে পরনিন্দা বা চোগলখুরি অন্যতম। অন্যের অগোচরে তার সমালোচনা করা এবং ঝগড়া বাঁধানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনকে বলাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১. চোগলখোরদের অনুসরণ না করার নির্দেশ
মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে যারা মিথ্যা শপথ করে এবং মানুষের নিন্দা করে বেড়ায়, তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে,
وَ لَا تُطِعۡ کُلَّ حَلَّافٍ مَّهِیۡنٍ ﴿ۙ۱۰﴾ هَمَّازٍ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِیۡمٍ ﴿ۙ۱۱﴾
“যে বেশি শপথ করে এবং যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে আপনি তার আনুগত্য করবে না।” [সূরা আল-ক্বালম, আয়াত: ১০-১১]
নমীমাহ (চোগলখুরি) কী?
নমীমাহ বলা হয় এমন কাজকে, যেখানে কোনো ব্যক্তি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঝগড়া-ফাসাদ বা বিবাদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কানে গিয়ে পৌঁছায়।
২. কবরের আযাবের অন্যতম কারণ
চোগলখুরি বা মানুষের গোপন কথা ফাঁস করে বেড়ানো কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং এটি পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: “এই দুই কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে (তাদের দৃষ্টিতে) কোনো বড় অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের মধ্যে একজন এমন ব্যক্তি ছিল, যে চোগলখুরি করত (অর্থাৎ একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগিয়ে বেড়াত)।” [সহীহ বুখারী]
এই নির্দেশনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং জিহ্বা ও কথা নিয়ন্ত্রণে রাখা ঈমানের অন্যতম দাবি। চোগলখুরি সামাজিক ঐক্য নষ্ট করে এবং আল্লাহর ক্রোধ ও কবরের আযাবকে ত্বরান্বিত করে।
সালাফদের কাছে রমাদান ছিল আত্মার উৎকর্ষের মাস—যেখানে খাবার ও পানাহারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইবাদত, নেক কাজ এবং আল্লাহর প্রতি সততা।
হযরত মালেক বিন দিনার (রহ.) বর্ণনা করেন—
বসরার একদল লোক রমাদান আসার আগে একটি দাসী ক্রয় করল। দাসীটি দেখল তারা প্রচুর খাদ্য ও পানাহার সংগ্রহ করছে, তখন জিজ্ঞেস করল, “আপনারা এগুলো দিয়ে কী করবেন?” তারা বলল, “রমাদান মাসের জন্য।” দাসীটি উত্তর দিল:
“আমি এমন এক কওমের সঙ্গে ছিলাম, যাদের পুরো বছরটাই ছিল রমাদান মাসের মতো—ইবাদতে মগ্ন। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব না।”
— খালিদ আবু সালিহ, আস-সালাফু ওয়া তা’জিমু শানি রমাদান, পৃ: ১১